বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন
বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে প্রতারণা—যশ দয়ালের ক্যারিয়ার কি শেষ?
অনলাইন ডেস্ক
ভারতের উদীয়মান ক্রিকেটার ও আইপিএলের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) পেসার যশ দয়াল এবার মাঠ নয়, মুখোমুখি হয়েছেন বড় ধরনের আইনি বিপদের। গাজিয়াবাদের এক নারী তাঁর বিরুদ্ধে করেছেন ভয়ংকর অভিযোগ—যার মধ্যে রয়েছে শারীরিক নিপীড়ন, মানসিক হয়রানি, প্রতারণা এবং বিয়ের ভুয়া আশ্বাসে যৌন শোষণ। ভারতের নতুন ফৌজদারি আইন ‘ভারতীয় ন্যায় সঞ্চিতা’র ৬৯ নম্বর ধারায় থানায় দায়ের হয়েছে এফআইআর।
গাজিয়াবাদের ইন্দিরাপুরম থানায় করা অভিযোগে ওই নারী দাবি করেন, যশ দয়ালের সঙ্গে তার পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের শুরু থেকেই বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যবহার করেছেন তাকে। অভিযোগে বলা হয়, ‘যশ আমাকে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, স্বামীসুলভ ব্যবহার করতেন। আমি তাঁর উপর বিশ্বাস রেখে সব দিয়েছিলাম। কিন্তু একসময় বুঝতে পারি, সবই ছিল ছলনা। প্রতিবাদ করলেই তিনি আমাকে মারধর করতেন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার মতো আচরণ করতেন। শুধু তা-ই নয়, আর্থিকভাবেও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি।’ এমনটাই লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এফআইআরে।
ভারতীয় ন্যায় সঞ্চিতার ৬৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রতারণার মাধ্যমে—বিশেষ করে বিয়ের ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা—আইনের দৃষ্টিতে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে গাজিয়াবাদ পুলিশ। ট্রান্স-হিন্দন এলাকার ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) নিমিশ পাটিল ‘গণমাধ্যম’কে জানান, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে এফআইআর নথিভুক্ত করেছি। তদন্ত চলছে এবং তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
বর্তমানে ২৭ বছর বয়সী এই বাঁহাতি পেসার সর্বশেষ আইপিএলে আরসিবির হয়ে আলো ছড়ান। ঘরোয়া ক্রিকেটেও তার পারফরম্যান্স চোখে পড়ার মতো ছিল। কিন্তু এই মামলার প্রেক্ষিতে এখন তার ক্যারিয়ার ও ভাবমূর্তি—দুটোই শঙ্কার মুখে।
ভারতীয় ক্রিকেটে ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির খবর নতুন কিছু নয়, তবে যশ দয়ালের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু তার জন্য নয়, পুরো ক্রিকেট সমাজের ভাবমূর্তির জন্যই বড় ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে। আপাতত সব নজর থাকছে তদন্তের গতিপথ ও বিচারিক সিদ্ধান্তের দিকে।